স্বল্প আয়ের মানুষ দেহের পুষ্টির যোগানে ডিম খেতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই ডিমের দাম হয়েছে আকাশচুম্বি। ফার্মের মুরগির একটি ডিম কিনতে এখন ব্যয় করতে হচ্ছে ১৫ টাকা। ফলে খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ পুষ্টিকর উপাদান প্রাকৃতিকভাবে যেসব খাবারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হলো ডিম। যেমন ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি এবং বি-টুয়েলভ্।
ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের ড: ফ্র্যাঙ্কি ফিলিপস্ বলছেন, ‘দিনে একটা- এমনকি দুটো ডিমও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।’
চীনে প্রায় ৫ লাখ লোকের ওপর এক গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন একটা করে ডিম খেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।
কিন্তু ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মিটছে না।
সরকারের খানা আয়–ব্যয় জরিপ–২০২২ বলছে, বাংলাদেশের মানুষ দিনে মাথাপিছু ১২ দশমিক ৭ গ্রাম করে ডিম গ্রহণ করে। সেটা আগের জরিপে ২০১৬ সালে ছিল ১৩ দশমিক ৬ গ্রাম।
মানুষের ডিম খাওয়া কমে যাওয়ার মূল কারণ দাম বেড়ে যাওয়া। এই জরিপের সময় ডিমের দাম কম ছিল। যা এখন ডজনপ্রতি প্রায় ৭০ টাকা বেড়েছে।
২০২২ সালেও ডিসেম্বরেও এক ডজন ডিমের খুচরা দাম ছিল ৮০ থেকে ৯৬ টাকা। সেটি এখন হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। হালি হিসেবে কিনলে দাম পড়ছে ৬০ টাকা করে ১৮০ টাকা।
এদিকে ভারতে ডিমের বাজার যাচাইকারী ওয়েবসাইট এগরেট ডট ইন-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কলকাতায় একটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫ দশমিক ২ রুপিতে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ৬ টাকা ৮৬ পয়সা। এই হিসেবে কলকাতায় এক ডজন ডিমের দাম ৮২ টাকা ৩২ পয়সা।
বাংলাদেশ ডিম আমদানি করে না। তবে বাজারে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী।
মন্ত্রী বলেন, বাজারে ডিমের দাম কত হবে, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বাজারে ডিমের দাম কত হবে, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কিন্তু এভাবে অভিযান চালিয়ে কি ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? কবে ডিমের দাম নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের নাগালে আসবে? সাধারণ মানুষের আশা, শিগগিরই ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।



