ডিজিটালের আতঙ্ক দূর হবে সাইবারে, দাবি আইনমন্ত্রীর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যত ভয়-উদ্বেগ ছিল, তা সাইবার নিরাপত্তা আইনে দূর হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন আইন নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

যদিও সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও একই উদ্বেগ ইতোমধ্যে জানিয়েছে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো।

সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশন শুরু করে সাংবাদিক পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ মানুষ এ ধরনের আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সেই জায়গাগুলো একটু সংশোধন করা, যাতে সংবাদ মাধ্যম এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশনের যে ভাবনা-চিন্তা, সেটা যেন ব্যাহত না হয়। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে আমরা সেই জায়গাটায়, সেই প্রশ্নটায়, সেই উত্তর দিতে পেরেছি। সেই প্রশ্নটা আমরা নিরসন করতে পেরেছি এবং সেই ভয়টা আমরা দূর করতে পেরেছি।

বহুল বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইন বাদ দিয়ে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সরকার। তবে এই আইনটিও পড়ে সংবাদ মাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনায়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অন্তরায় বলেেআন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও চিহ্নিত করে।

সমালোচনার মধ্যেও এই আইন রাখার পক্ষে সরকার অনড় অবস্থান ছিল সরকারের। তবে এক পর্যায়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনও এই আইনটি স্থগিতের আহ্বান জানালে নির্বাচনের আগে সরকার আগের অবস্থান থেকে সরে।

আইনটির কিছু ধারা সংশোধন করা হবে বলে আইনমন্ত্রী কিছু দিন ধরে জানিয়ে এলেও সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানান হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কার করে সাইবার নিরাপত্তা আইন নামে নতুন আইন হচেছ। তাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধিকাংশ ধারা থাকবে। তবে বিতর্কিত কিছু ধারায় পরিবর্তন আসবে।

যেসব ধারা নিয়ে বেশি বিতর্ক ছিল, কয়েকটি ক্ষেত্রে সেগুলোর সাজা কমিয়ে আনা হবে। ‘জামিন অযোগ্য’ কয়েকটি ধারাকে করা হচ্ছে ‘জামিন যোগ্য’।

মানহানি মামলায় কারাদণ্ডের বিধান বাদ দিয়ে রাখা হবে শুধু জরিমানার বিধান। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে কমানো হবে সাজা।

প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আগামী ১৪ দিন লিখিত মতামত দেওয়া যাবে বলে এক প্রশ্নে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে আপলোড করার মাধ্যমে কিন্তু আপনাদের কমেন্ট আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সেটা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি যে, আপনারা যেন এটার উপর কমেন্ট করেন। আর আমাদের কথা বলতে তো আপত্তি নাই।

আইনমন্ত্রী বলেন, যতটুকু জেনেছি, গতকাল থেকে ১৪ দিন গণনা করা হবে। এই ১৪ দিন এটা ওয়েবসাইটে থাকবে। আমি এটা আগেও বলেছি, আপনারা যদি লিখিতভাবে আমাদের কাছে পাঠান, আমরা সেগুলো দেখে আপনাদের কমপ্লেইনগুলি অবশ্যই বিবেচনা করার চেষ্টা করব।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এক বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে, নতুন আইনটিও মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশে বাধা হতে পারে।

সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতে বলেছে, নতুন প্রস্তাবিত আইনটিতে চরিত্রগত কোনো পার্থক্য না থাকলে শুধু নাম পরিবর্তন করা হবে ‘অর্থহীন’।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top