
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেই ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন ২ মার্কিন কংগ্রেসম্যান—রিচার্ড ম্যাককরমিক এবং এড কেস।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, আগামী ১২ থেকে ১৫ আগস্ট তারা বাংলাদেশ সফর করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসবেন, কিন্তু আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করবেন।’
রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বড় দাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই ২ কংগ্রেসম্যান তাদের সফরকালে দেখবেন যে কীভাবে তাদের করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সফরে যে ২ কংগ্রেসম্যান আসছেন, তাদের মধ্যে রিচার্ড ম্যাককরমিক রিপাবলিকান দলের এবং এড কেস ডেমোক্র্যাট দলের।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই ২ কংগ্রেস সদস্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও দেখা করতে পারেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে, যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে। ২০২১ সালে র্যাব এবং এর ৭ কর্মকর্তার ওপর স্যাংশন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২০২১ ও ২০২৩ সালে গণতন্ত্র সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি।
গত ২৪ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি ভিসা নীতি ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনে যারা ভোট কারচুপি বা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো কার্যক্রমে জড়িত থাকবেন তাদের ভিসা দেবে না দেশটি।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাইডেন প্রশাসনের বৈদেশিক নীতিতে অগ্রাধিকার পায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। সেইসঙ্গে যেহেতু দুর্নীতি গণতন্ত্রকে চাপে ফেলে, তাই বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্যোগও নিয়েছে ওয়াশিংটন।
এরই অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক দুর্নীতিবিরোধী সমন্বয়কারী রিচার্ড নেফিউ গত ৬ থেকে ৮ আগস্ট ঢাকা সফর করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, স্যাংশন দুর্নীতি দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ওয়াশিংটনও চায় ঢাকা তাদের পাশে থাকুক।
আরও পড়ুন
- স্যাংশন দুর্নীতি দমনের হাতিয়ার: মার্কিন দুর্নীতি দমন সমন্বয়ক
- ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন কারা, যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস
- নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
- নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, র্যাবকে প্রধানমন্ত্রী
- র্যাব ও তার ছয় কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ



