‘ভাড়ায়’ জেল খাটা, ২৯০ বন্দীর একাধিক এনআইডি

জমির আলী পরিচয়ে এক ব্যক্তি সুনামগঞ্জের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে কারাগারের কর্মকর্তারা জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের সঙ্গে আসামির আঙুলের ছাপ মেলাতে গিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি প্রকৃত আসামি নন। তিনি টাকার বিনিময়ে ভুয়া আসামি সেজে কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

জমির আলী সেজে কারাগারে যাওয়া এই ব্যক্তির প্রকৃত নাম মো. আবু সামা। ভুয়া তথ্য দেওয়ার দায়ে আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেন।

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ যখন গ্রেপ্তার করে, তখন তিনি (আবু সামা) মিথ্যা পরিচয় দিয়ে থাকতে পারেন। আবার অন্য সময়ও পরিচয় বদল হতে পারে। কিন্তু কারাগারে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের পদ্ধতি থাকায় বিষয়টি খুব সহজেই ধরা পড়ে।

শুধু সুনামগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন কারাগারে এমন ‘ভাড়ায় খাটা’ বন্দীর তথ্য মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে জেল খাটা ২৪ ভুয়া বন্দীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কারাগারে এমন ২৯০ বন্দীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা একাধিক এনআইডি ব্যবহার করে একাধিকবার কারাগারে ঢুকেছেন। পাঁচটি এনআইডি ব্যবহার করে একই ব্যক্তির পাঁচবার কারাগারে ঢোকার বিষয়টিও প্রিজন ইনমেট ডেটাবেজ সিস্টেমের (পিআইডিএস) মাধ্যমে ধরা পড়েছে।

বন্দীর তথ্য-উপাত্ত যাচাইসহ (বায়োমেট্রিক ক্রস ম্যাচিং) নিবন্ধন করে রাখার জন্য দেশের সব কারাগারে পিআইডিএস স্থাপন করা হয়েছে। পিআইডিএস স্থাপনের কাজটি করেছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পিআইডিএসে সব বন্দীর ব্যক্তিগত তথ্য, অপরাধের ধরন, অতীতের কর্মকাণ্ড, বন্দীকে কারাগারে দেখতে আসা ব্যক্তিদের তথ্য (ভিজিটর হিস্ট্রি) ইত্যাদি দেড় শতাধিক তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ জেল ডেটাবেজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top