যেমন আছে মিরপুরের বধ্যভূমিগুলো

সরেজমিনে সারেংবাড়ি বধ্যভূমি, গোলারটেক বধ্যভূমি, রাইনখোলা বধ্যভূমি ও মিরপুর বাংলা কলেজ বধ্যভূমি।

মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার। মাজারের পূর্ব-উত্তর কোণের গলি ধরে কিছুটা ডানে বামে এগুলেই রাস্তার বামে চোখে পড়বে মনির উদ্দিন শাহের মাজার। মনির উদ্দিন শাহ একসময় সারেং থাকায় তার নামেই এলাকাটির নাম সারেং বাড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা উত্তরকালে এই এলাকায় তীব্র পানি সংকটের জন্য মাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে খনন করা হয়েছিল দুটি কুয়া। মুক্তিযুদ্ধকালীন এই দুটি কুয়া ও মাজারের সুয়ারেজটি পরিণত হয়েছিল এক ভয়াল মৃত্যুকূপে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারেরা সাধারণ মানুষকে হত্যা করে কুয়া ও সুয়ারেজ রিজার্ভারে চাপা দিতো।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা শহীদের লাশে পূর্ণ কুয়া দুটি আবিস্কার করেন। ১৯৯১-৯২ সালের দিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাজার সংলগ্ন সুয়ারেজ ট্যাংকটি পরিষ্কার করতে গেলে বেরিয়ে আসে অজস্র মাথার খুলি, হাড়, গুলির খোসা, জুতাসহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসসেই সঙ্গে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের এক পৈশাচিক গণহত্যার বয়ান। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সারেং বাড়ি গণহত্যায় বাবাকে হারিয়েছিলেন স্থানীয় মুদি দোকানি আবদুল মালেক। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘সারেং বাড়ি তখন নিচু এলাকা ছিল। যুদ্ধের সময় ভয়ে আমরা এলাকায় থাকতে পারিনি। আমার বাবার পরে আসার কথা ছিল কিন্তু তিনি আর আসতে পারেননি। এখানেই তাকে মেরে ফেলা হয়। যুদ্ধ শেষে আমরা যখন এলাকায় ফিরে এলাম তখন দেখি চারদিকে শুধু লাশের গন্ধ। মানুষের কঙ্কাল আর খুলিতে ভর্তি কুয়া।’

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top