
ঢাকা ওয়াসা’র কার্যালয়ের ছবিটি সংগৃহীত
ঢাকার বসবাসরতদের সরবরাহ করা পানির দাম গত ১৪ বছরে ১৪ বার বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। আবারও পানির দাম বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবার দাম বৃদ্ধির জন্য গ্রাহকদের আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিতে চায় ঢাকা ওয়াসা। অর্থাৎ আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পানির দাম নির্ধারণ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এতে আবারও পানির খরচ বাড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকদের।
ঢাকা ওয়াসার দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় গ্রাহককে কম দামে পানি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১০ টাকা। এই ভর্তুকি কমিয়ে সংস্থার লাভ বাড়াতে পানির দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পানির দাম কার্যকর করতে চায় সংস্থাটি।
যদিও সংস্থাটির কর্মকর্তারাসহ নগরবিদেরা বলছেন, পানির দাম বাড়িয়ে ওয়াসা নিজের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায় জনগণের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। পানির প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় কম। উচ্চ সুদে বৈদেশিক ঋণের টাকায় প্রকল্প করছে ওয়াসা। এসব ঋণের দায় চাপছে জনগণের ঘাড়ে। অন্যদিকে ঋণের টাকায় করা প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসায় ‘সিস্টেম লস’ (ব্যবস্থাগত অপচয়) ২০ শতাংশ। এ অপচয় কমাতে পারলে ওয়াসাকে পানির দাম বাড়াতে হতো না। সব খরচ বাদ দিয়ে ঢাকা ওয়াসা প্রতিবছর লাভ দেখায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। লাভে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকির কথা বলে পানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক বলে মনে করেন তাঁরা।
ঢাকা ওয়াসা কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী পানির দাম নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের একটি বক্তব্যে। গত রোববার ঢাকা ওয়াসা ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভর্তুকি দিয়ে ঢাকায় ধনীদের পানি সরবরাহ করা উচিত নয়। ঢাকা ওয়াসার এক হাজার লিটার পানি উৎপাদনে খরচ হয় ২৬ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রি করছে ১৫ টাকায়। সরকার কি বাকি ১৫ টাকা ভর্তুকি দিতে থাকবে?
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ঢাকা ওয়াসার প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে এই হারে পানির বিল দিতে হয়। আর বাণিজ্যিক গ্রাহকদের প্রতি হাজার লিটার পানির বিল দিতে হয় ৪২ টাকা।



