ডিমের দামে রেকর্ড : হালি ৬০, ডজন ১৭০

ফাইল ছবি

কম আয়ের মানুষের পুষ্টির বড় উপাদান ফার্মের মুরগির ডিম। এবার সেই মুরগির ডিমের দাম রেকর্ড গড়েছে। এক হালি ডিম ৬০ টাকা, আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকেই ডিম কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ডিমের দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে করণীয় নির্ধারণে আজ রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে সভা ডেকেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সভায় পোলট্রি খাতের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। সভা থেকে ডিমের উৎপাদন খরচ ঘোষণা করা হতে পারে।

খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তারা বলছে, এক মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।

খুচরা বাজারে এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় এবং ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও ডজনপ্রতি ডিম ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। পাশাপাশি ফার্মের সাদা ডিমের দামও বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। ফার্মের ডিমের কারণে হাঁসের ডিমের দামও বেড়েছে। যদিও দাম বেশি থাকায় বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলক অনেক কম।

গত বছরও ডিমের অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল। তখন সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। এবার সেই দামও টপকে গেছে। ওই সময় ভোক্তা অধিদপ্তর ডিমের দাম বাড়ানোর পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে। যেগুলোর এখনও সুরাহা হয়নি।

খামারিদের দাবি, খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা ৫০ পয়সায়। তাই খুচরা বাজারে ডিমের দাম সর্বোচ্চ ১৩ টাকা হওয়া উচিত। তবে খামারিদের এ দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, খামার থেকে প্রতিটি ডিম কিনতে হচ্ছে ১২ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৪০ পয়সায়। ডিমের কেনা দরের তথ্যপ্রমাণও রয়েছে তাদের কাছে। মূলত খামার পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে।

ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক ধরনের ‘গায়েবি এসএমএস’ দিয়ে সারাদেশে দাম নির্ধারণ করা হয়। গত বছর দামে কারসাজির কারণে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশন কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। তাদের শাস্তির আওতায় না আনার কারণে এবারও একই কাণ্ড ঘটছে।

ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা বলেন, বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারের ফর্দে করছেন কাটছাঁট। এর মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে মাছের দামও চড়া। এতে ভোক্তারা আমিষের চাহিদা পূরণ করতে ডিমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন। তবে ডিমের বাড়তি এ দাম এখন তাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top