আমার ক্যান্সার কাউন্সিলর হয়ে ওঠার গল্প

রোকশানা আফরোজ

দিনটি ছিল ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। জানতে পারলাম, আমি ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত। অর্ধযুগেরও বেশি সময় পার করে ক্যান্সার নিয়ে আমার বসবাসের দিনগুলো নিয়ে লিখতে বসেছি। পেছন ফিরে দেখি কখনো রোলার কোস্টার, তো কখনো সাপ-লুডু খেলা। ক্যান্সার সঙ্গী করে এভাবেই চলছে যাপিত জীবন। তবে ছয় বছর আগে রোগের কথা ভেবে ভেঙে পড়া আমি এবং এখনকার ‘আমি’ এক নই। মননে এসেছে বিস্তর পরিবর্তন। ওই পরিবর্তনের গল্পটাই লিখব কেবল।

২৩ ফেব্রুয়ারির ২০১৭ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে সিএমএইচে গেলাম। এর কিছুদিন আগ থেকেই ভীষণ কাশি ছিল, কথাই বলতে পারতাম না কাশির জন্য। আমার বন্ধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুন ভাবির জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই সিএমএইচ যাওয়া। যে ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ছিলেন তিনি প্রশ্ন করলেন, কী সমস্যা আপনার? আমি বললাম, বেশ কিছুদিন থেকে কাশি, ওজন বেড়ে গেছে অনেক আর পেটটা বড় হয়ে যাচ্ছে। তিনি গম্ভীর হয়ে বললেন— এখনই গাইনি ডাক্তারের কাছে যান। আমি পিছলে যেতে চাইলাম, পারলাম না।

আমার জীবনসঙ্গী সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ওই সময় তার পোস্টিং যশোরে ছিল। আমরাও যশোরে থাকতাম। ঢাকায় তার অফিসের এক অনুষ্ঠানে এসেছিলাম দু-দিনের জন্য। সে অনুষ্ঠানেই আমি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লাম। কিন্তু ফিরে যাবার কথা যশোরে, তাই তাড়াহুড়ো করছিলাম। রিপোর্ট নিয়ে গেলাম সাইফুন ভাবীর কাছে। অনেকদিন পর দেখা। প্রথমে খুব খুশি হলেন আমাকে দেখে। কিন্তু রিপোর্ট দেখে ভাবি দাঁড়ানো থেকে বসে পড়লেন। প্রচণ্ড হতাশা থেকে রীতিমতো রেগে গেলেন। বললেন, ‘আপনি আগে আসেননি কেন? পেট ভর্তি পানি, বড় বড় দুটো টিউমার। এখনই ভর্তি হন। অশিক্ষিত নাকি?’ আমি গাঁইগুঁই করার সুযোগই পেলাম না। যশোর ফেরা হলো না, ভর্তি হয়ে গেলাম ঢাকা সিএমএইচ-এর অফিসার্স ওয়ার্ডের টিয়া কেবিনে।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top