
আলতাফ পারভেজ
সাগর ও বন্দর মিলিয়ে দক্ষিণ সীমান্ত ঐতিহাসিকভাবে বাংলার সমৃদ্ধির বড় এক উৎস। এই সীমান্ত দিয়ে কালে কালে দুঃসংবাদও এসেছে ঢের। জাপানি আগ্রাসনের মুখে পঞ্চাশের মন্বন্তরের স্মৃতি এখনো গ্রামবাংলার মনে আছে। কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না। প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন লাগলে সীমানায় অস্ত্র হাতে রক্ষী বসিয়ে নির্বিকারও থাকা যায় না।
মাত্র তিন দিন আগে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে লিখেছিলাম আরাকান থেকে আরও মানুষ আসবে এবং সেটা আগের মতো রোহিঙ্গারা না-ও হতে পারে। এমন অনুমানের কারণ সেখানকার মেঠো পরিস্থিতি। তারপরও গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ঘটনাবলিতে বাংলাদেশ বিস্মিত। মিয়ানমারের যুদ্ধে বাংলাদেশের গা বাঁচিয়ে চলার দিন হয়তো শেষ হলো।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে আরাকান আর্মির প্রধান ওয়াং ম্রা নাইংয়ের সঙ্গে কথা বলার সময়ই মনে হয়েছিল বামারদের থেকে রাখাইনদের মাতৃভূমি উদ্ধারের সংগ্রাম দ্রুত নতুন উচ্চতায় যাচ্ছে। প্রথম আলোয় সেই সাক্ষাৎকার ছাপা হয় ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি। ৪৫ বছর বয়সী নাইংয়ের সাবলীলতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে ‘ফরমাল জেনারেল’ এবং ‘গেরিলা নেতা’র ফারাকটা স্পষ্ট ছিল। আলাপের শেষে নাইং অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছিলেন, তাঁরা বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলতে চান এবং সেটা উভয়ের স্বার্থে; রোহিঙ্গাদের স্বার্থেও। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ‘বন্ধু’কে রাখাইন জেনারেলের সেই বার্তা পৌঁছাতে গিয়ে উত্তর শুনেছি, ‘আমরা এখনো প্রস্তুত নই।’
বলা বাহুল্য, রাখাইন তরুণ গেরিলারা ইতিমধ্যে তাদের ‘অভাবে’র জায়গাগুলো অনেকখানি মিটিয়ে ফেলেছে। জানুয়ারিতে পালেতোয়া দখল করে তারা জানিয়ে দিল ‘সদর দপ্তর’ সঙ্গে নিয়ে মাতৃভূমিতে ফেরার সংগ্রাম হয়তো শিগগিরই পূর্ণতা পাবে। বান্দরবান লাগোয়া পালেতোয়া চিন প্রদেশের শহর হলেও মানচিত্র দেখলে সবাই বুঝবেনÑকাচিন অঞ্চলের গোপন ঘাঁটি থেকে রাখাইন গেরিলাদের আরাকানে ঢুকতে এটা সদর দরজার মতো।



