কূপমণ্ডুকতায় আচ্ছন্ন হওয়া মানে পিছিয়ে যাওয়া

শাহানা হুদা রঞ্জনা

‘শরীফ’ থেকে ‘শরীফা’ হওয়ার গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার মাধ্যমে সবচেয়ে দুঃখজনক যে বিষয়টি উঠে এলো তা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুটি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া এবং ব্যাখ্যা। হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার সম্পর্কে ভুল জানা, অর্ধেক তথ্য জানা, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার কীভাবে শহুরে শিক্ষিত মানুষের মনে গেড়ে বসে আছে এটাই প্রমাণিত হলো। সেইসাথে এটাও প্রমাণিত হয়েছে অনেক মানুষ জেনেশুনেও সত্য এড়িয়ে যেতে চাইছেন। হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার শব্দটি শোনার পরে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন অনেকে, যেন মনেহচ্ছে অশ্লীল কোন জনগোষ্ঠীর কথা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোনো বিষয় নিয়ে ব্যক্তি কী প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন বা কি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সেটা সেই ব্যক্তির জ্ঞান, চরিত্রের বিশুদ্ধতা এবং চিন্তাভাবনার সুস্থতা প্রমাণ করে। শরীফ থেকে শরীফার গল্প নিয়ে ধর্মব্যবসায়ীদের কথা বাদ দিলেও উচ্চশিক্ষিত অনেকের প্রতিক্রিয়া এবং ব্যাখ্যাও বিভ্রান্তিপূর্ণ। বলতে বাধ্য হচ্ছি এই অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি ওইসব পেশাজীবীদের ইনটেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি ও ইনটিগ্রিটির অভাবকে তুলে ধরছে, এরচেয়েও ঢের বেশি ক্ষতি করছে সমাজের চিন্তাভাবনাকে। এই সমাজের একটা বড় অংশ “বই ছিঁড়ে ফেলো, বই ছিঁড়ে ফেলো” শ্লোগান তুলছেন এবং সেইমতো কাজ করাতে সরকারকে বাধ্য করতে চাইছেন।

অনেকে মনে করছেন হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুটি কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে এটা নিয়ে এত সময় নষ্ট করতে হবে? ইস্যুটা কিন্তু সময় নষ্ট নয় বা অযথা তর্ক-বিতর্ক নয়। এ হচ্ছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একদল প্রান্তিক মানুষকে বোঝা ও সম্মান করার বিষয়, তাদের অধিকার রক্ষার বিষয়। এই মানুষগুলো সম্পর্কে যে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাতে সমাজে এদের অবস্থান আরো প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির প্রতি কোনো কোনো গোষ্ঠীর ভয়, ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশের বিরুদ্ধে আবার কলম ধরতে হলো। আরো অদ্ভুত ব্যাপার যে দুটি “পাঁচ তারকা বিশ্ববিদ্যালয়ে”র কিছু শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি এই ভুল ধারণার সাথে জড়িত। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা, ঝকঝকে ক্যাম্পাস, ইংরেজি ভাষায় পাঠদান, একাডেমিক ক্যারিয়ার, আধুনিক পড়াশোনা জানা হলেই যে একজন মানুষ যথার্থ শিক্ষিত, কনসেপচুয়ালি ঠিক ও আধুনিক মানুষ হবেন, তা বলা যায় না।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top