ক্যান্সার পেরিয়ে আসা একজন মানুষের উপলব্ধি

মসিহউদ্দিন শাকের

মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং অন্যদেরকেও সেভাবে বেঁচে থাকতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্য পূরণের জন্যই তার সব কাজকর্ম— শিক্ষা, দীক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও অর্থনীতি পরিচালিত হতে হবে। এ সত্যটি আমরা অধিকাংশ মানুষ আগে বুঝতে পারি না, অসুস্থ হয়ে নানাভাবে মাশুল দিয়ে বুঝি। অসুখ-বিসুখের কারণগুলোকে মোটাদাগে তিনটি ভাগ করা যায়। প্রথমটি বংশগত, দ্বিতীয়টি পরিবেশগত ও তৃতীয়টি জীবনযাপনের পদ্ধতিগত, যাকে ইংরেজিতে লাইফস্টাইল বলা হয়।

এ তিনটি কারণের মধ্যে আবার একটি সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কটি এভাবে বলা যায়— রোগ যেন গুলিভর্তি বন্দুক, প্রতিকূল পরিবেশ হচ্ছে এর ট্রিগার এবং ভুল জীবন-যাপন পদ্ধতি হচ্ছে ট্রিগারে চাপ দেওয়া।

প্রথম এবং দ্বিতীয় কারণ দুটোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাল দেওয়া যায়, তৃতীয় কারণটি অর্থাৎ জীবন-যাপনের সঠিক পদ্ধতি বা নিয়ম মেনে করা সম্ভব। আমি এখন সে কথাটিই বলব নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে। 

শুরুতে বংশগত অসুখের চিত্রটি তুলে ধরছি। আমার দাদা-নানা দুইজনেই চল্লিশ বছর পেরোতেই মারা যান। মৃত্যুর আগে বছর তিনেক ধরে দাদার গলার ভেতর থেকে রক্ত বের হতো। নিশ্চয়ই তা ক্যান্সার ছিল। তার মৃত্যুতে আমার দাদী তাদের ছয় মাস বয়সী একমাত্র সন্তান আমার বাবাকে কোলে নিয়ে বিধবা হন। আর আমার নানার মৃত্যু হয় স্ট্রোকে। তিনি খুব ভোজনবিলাসী ও মোটাসোটা ছিলেন। তারও একমাত্র সন্তান আমার মা।

ব্রিটিশ আমলে আমার দাদী তার ছেলেকে পড়াশোনা করাতে অনেক কষ্ট করেছিলেন। বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স করে পাকিস্তান আমলে চাকরি করতেন সচিবালয়ে। তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার ছিল গো-মাংস, যা তিনি রোজ প্রচুর পরিমাণে খেতেন। বছরখানেক ব্লাড ক্যান্সারে ভুগে ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে বাবারও মৃত্যু হয় মাত্র সাড়ে চল্লিশ বছর বয়সে।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top