ক্যান্সার মুক্তির এক যুগ

সেঁজুতি সাহা

২০১১ সালের জুলাই মাস। আমি তখন কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মা তার অফিস থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে ঘুরতে এসেছেন টরন্টোতে। দেশে ফেরার কিছুদিন আগে তিনিই প্রথম লক্ষ্য করলেন যে আমার গলার সামনের দিকটা নাকি একটু ফুলে আছে এবং ঢোক গেলার সময় দেখা যায়। আয়নায় এই ফোলাটা আমার চোখে পড়েনি কখনো, তবে মাঝে মাঝেই গলায় খাবার আটকে যেত। বাংলাদেশে ফিরে মা বারবার ফোন করে নিশ্চিত করলেন আমি যেন একজন ডাক্তার দেখাই। ইউনিভার্সিটি হেলথ ক্লিনিকে জেনারেল ফিজিসিয়ান দেখার পর তিনিই পাঠিয়ে দিলেন স্পেশালিস্টের কাছে। শুরু হয়ে গেল পিএইচডির পাশাপাশি নতুন এক যাত্রা— ক্যান্সার লড়াইয়ের যাত্রা।

পরের কয়েকটা মাস কাটল হাসপাতাল আর ক্লিনিকের ওয়েটিং রুমে। সঙ্গে প্রায়ই থাকত ইয়োগেশ, সদ্য বয়ফ্রেন্ড (এখন স্বামী)। আল্ট্রাসাউন্ড, বায়োপসি, বেরিয়াম টেস্ট, আয়োডিন টেস্ট, গাদা গাদা ব্লাড টেস্ট। মা আবার এলেন টরন্টোতে। তবে এবার আর বেড়াতে না, মেয়ের পাশে থাকতে।

আমার প্রথম সার্জারি হলো ২০১২ সালের মার্চ মাসের ১৩ তারিখে। গলা থেকে কেটে বের করা হলো ৬.৩ সেমি. বা একটা টেনিস বল আকারের টিউমার, সঙ্গে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের অর্ধেকটা। ৩০ মিনিটের সার্জারি নিল প্রায় ৩ ঘণ্টা। অধীর অপেক্ষায় নিচে বসেছিলেন মা আর বন্ধু নাবিলা। দুদিন পর বাসায় ফেরত গেলাম, কিন্তু ভালো হবার পরিবর্তে দেখা দিল বিভিন্ন জটিলতা। ঠিক মতো বসতে পারি না, মাথা নাড়াতে পারি না, এমনকি অনেক সময় আঙুল নাড়াতেও কষ্ট। প্রায় বিকেলেই বন্ধুরা আসত মা আর আমায় সঙ্গ দিতে। ধীরগতিতে সুস্থ হওয়া শুরু করলাম কিন্তু এর মধ্যেই ডাক্তারের অফিস থেকে জানানো হলো টিউমারের বায়োপসির ফলাফল ভালো না। খুব শিগগিরই আরও একটা সার্জারি লাগবে, বাকি থাইরয়েডটুকু এবং কিছু লিম্ফনোড ফেলে দিতে হবে।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top