গণতন্ত্র যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়

ড. মাহবুব উল্লাহ্ 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপক Steven Levitsky and Daniel Ziblatt যৌথভাবে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। গ্রন্থটির শিরোনাম হলো ‘How Democracies Die: What History Reveals About Our Future’. গ্রন্থটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, মর্কিন গণতন্ত্র কি বিপদাপন্ন। তারা কখনো ভাবেননি এ রকম প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।

তারা দেখেছেন, তাদের সহকর্মীরা ১৫ বছর ধরে চিন্তা করেছেন, লিখেছেন এবং ছাত্রদের পড়িয়েছেন গণতন্ত্রের ব্যর্থতা নিয়ে। এ বিপন্ন অবস্থা ছিল ভিন্ন কিছু দেশে এবং ভিন্ন কিছু সময়ে। এ পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৩০-এর দশকের ইউরোপের অন্ধকার সময়, ল্যাটিন আমেরিকায় ১৯৭০-এর দশকের নির্যাতন ও নিপীড়ন।

বেশ কিছু বছর ধরে তারা গবেষণা করেছেন কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন ধরনের কর্তৃত্ববাদের আবির্ভাব ঘটেছে। তাদের পেশাগত আচ্ছন্নতা হলো কী করে এবং কেন গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে তা বুঝতে চেষ্টা করা।

অনেকের ধারণা ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের ভিত এতই মজবুত যে, সেখানে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে না। হার্ভার্ডের এ দুই অধ্যাপক দুবছর ধরে দেখেছেন রাজনীতিবিদরা যা বলেন এবং করেন তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নজিরবিহীন। তারা জানতেন, পৃথিবীর অনেক দেশে গণতন্ত্র সংকটাপন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমসাময়িক অবস্থা দেখে তারা ভয় পাচ্ছেন। নিজেদের প্রবোধ দেওয়ার জন্য তারা ভাবতে চেষ্টা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এত খারাপ হতে পারে না।

তারা জানতেন, গণতন্ত্র সবসময় ভঙ্গুরতার মধ্যে থাকে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ মাধ্যাকর্ষণের শক্তিকে যে কোনোভাবেই হোক অস্বীকার করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সাম্যের বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিকভাবে এর পরিপুষ্ট মধ্যবিত্ত শ্রেণি, সম্পদ ও শিক্ষায় উচ্চস্তর অর্জন, বিশাল ও বহুমুখী ব্যক্তি খাত, সব মিলিয়ে গণতন্ত্র যাতে স্বৈরতন্ত্র দ্বারা সংক্রমিত না হয়, তার জন্য এক ধরনের টিকার মতো কাজ করছে। তদসত্ত্বেও এ দুই অধ্যাপক দুশ্চিন্তামুক্ত নন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন রাজনীতিবিদরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের শত্রু বলে গণ্য করে। স্বাধীন সংবাদপত্রের ওপর খবরদারি চলে এবং নির্বাচনের ফলাফল না মানার একটি সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছে। এ রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্রকে নিরাপদ করার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান রক্ষাকবচের মতো কাজ করে, সেগুলোকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top