গুগল অনুবাদে ইংরেজি ভার্সন, ভুল তথ্যে পাঠ্যপুস্তক

নাদিম মাহমুদ

নতুন শিক্ষাক্রমে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের বাংলা সংস্করণে (ভার্সনে) বিভিন্ন অধ্যায়ে যেসব প্লাজিয়ারিজম দেখতে পেয়েছি, তা নিয়ে আগের লেখায় আলোচনা করেছি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রায় প্রতিটি শ্রেণিতে বাংলার পাশাপাশি প্রতিটি বইয়ের ইংরেজি ভার্সনও চালু রেখেছে। ইংরেজি ভার্সনে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এসব বই।

বাংলা ভার্সনে বইটি লেখার দায়িত্বে ছিলেন ১১ জন। ইংরেজি ভার্সনে সেই ১১ জনের পাশাপাশি ৬ জন অনুবাদকের নামও রয়েছে। এটা অনুমেয় যে তাঁদের কাজ ছিল বাংলা ভার্সনের আদলে পাঠ্যপুস্তকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা। কিন্তু বইটির বিভিন্ন অধ্যায়ের ইংরেজি অনুবাদ এসেছে স্পষ্টতই ‘গুগল ট্রান্সলেটর’-এর সহায়তায়।

প্রথম অধ্যায়ে গুগল ট্রান্সলেটরের ব্যবহার

বইটির শুরুতেই প্রথম অধ্যায়ের প্রথম অনুচ্ছেদটি ভাষান্তরে ‘মানবীয়’ ছাপ থাকলেও ১.১.১ অনুচ্ছেদ অনুবাদে হুবহু গুগলের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। অনুবাদ করতে গুগল ট্রান্সলেটর ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানার জন্য পুরো বই ধরে ধরে দেখার প্রয়োজন নেই। বাংলা ভার্সনের বইটির ১.১.১ অনুচ্ছেদের কয়েকটি বাক্য হলো, ‘তোমরা যদি বাসে কিংবা ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাক, এবং হঠাৎ বাস কিংবা ট্রেনটি চলতে শুরু করে, তখন তোমরা লক্ষ করে থাকবে যে তোমরা পিছন দিকে পড়ে যেতে চাও। বাস কিংবা ট্রেনের মেঝেতে স্পর্শ করে থাকা তোমার শরীরের নিচের অংশ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলেও শরীরের উপরের অংশ তার আগের অবস্থানেই স্থির থাকতে চায়, সে জন্য তোমার শরীরের উপরের অংশ পেছন দিকে হেলে পড়ে এবং তুমি পড়ে যেতে উদ্যত হও।…’

এ অংশটুকু গুগল ট্রান্সলেটরে লিখলে এর অনুবাদ দেখানো হবে, ‘If you are standing in a bus or train, and suddenly the bus or train starts moving, you will notice that you want to fall backwards. Your lower body touching the floor of the bus or train starts to move forward, but your upper body wants to stay in its previous position, so your upper body leans back and you tend to fall….’ এটা ইংরেজি ভার্সনের বইটির সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে।

রসায়ন ও জীববিদ্যার অংশেও গুগল ট্রান্সলেট

বাংলা ভার্সনে বইটির সপ্তম অধ্যায়ের শুরুতে (১১১ পৃষ্ঠায়) শুরুতে লেখা হয়েছে, ‘আমরা জানি এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত 118টি মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণুগুলো যুক্ত হয়েই বিভিন্ন অণু গঠন করে।…’ এর গুগল ট্রান্সলেট হয়, ‘We know that different atoms of the 118 elements discovered so far combine to form different molecules….’ হুবহু এ বাক্য ইংরেজি ভার্সনের বইয়ে রয়েছে।

বাংলা ভার্সনে নবম অধ্যায়ের ‘জৈব অণু’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সজীব কোষ অসংখ্য অণু দিয়ে গঠিত। এই অণুগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র অণু এবং বৃহৎ অণু যেগুলোকে একত্রে জৈব অণু বলে পরিচিত। সাধারণত 25টির বেশি মৌলিক পদার্থ নিয়ে এসব জৈব অণু গঠিত এদের ভিতর ছয়টি মৌলিক পদার্থ জৈব অণুর সাধারণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’ এই অনুচ্ছেদের গুগল ভাষান্তরটি ইংরেজি ভার্সনে ১৩৫ পৃষ্ঠার সঙ্গে অবিকল মিলে গেছে।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top