জাতীয় পার্টি আর কত নাটক করবে?

ইমতিয়াজ মাহমুদ

জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মতো জাতীয় পার্টিরও উপযোগিতা আছে আমাদের কাছে যেটা বাংলাদেশের কেউই অস্বীকার করতে পারবেন না—বিনোদন, অতি উৎকৃষ্ট রাজনৈতিক বিনোদন তথা হাস্যরস।

এরশাদ নিজে ছিলেন স্বৈরাচারী সামরিক শাসক, সারাদেশ নানা জোটে বিভক্ত হয়ে আন্দোলন করছে তাকে হঠানোর জন্য। সেই অবস্থার মধ্যেও তার কর্মকাণ্ড আমাদের ক্রমাগত জুগিয়ে যেত রাজনৈতিক হাস্য বিনোদন। এরশাদের কোনোপ্রকার নীতি নৈতিকতা ছিল না সেইরকম সিদ্ধান্তহীনতা ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেও।

সামরিক শাসন জারি করে তিনি ক্ষমতা দখল করেন, সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ দখল করার আগে তার পদবী ছিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বা ইংরেজিতে Chief Martial Law Administrator বা সংক্ষেপে CMLA বা সিএমএলএ। এই সংক্ষিপ্ত রূপ সিএমএলএ কথাটাই তখন সবাই ঠাট্টা করে বলতো সিএমএলএ মানে হচ্ছে ক্যান্সেল মাই লাস্ট অ্যানাউন্সমেন্ট। কেননা সামরিক শাসক হিসেবে নিয়মিত যেসব আদেশ তিনি দিতেন দেখা যেত, দিন শেষ না হতেই তা আবার বদলে দিচ্ছেন।
এরশাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন আর তার পরিবারের জন্য অন্যান্য ত্যাজ্য বিত্তের সাথে একটা সম্পদ রেখে গেছেন তা হচ্ছে জাতীয় পার্টি। ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর জাতীয় পার্টি থেকে কিছু নেতা বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করে। তবে জাতীয় পার্টির বড় অংশটি অথবা বলতে পারেন মূল অংশটি এরশাদের দখলেই ছিল যেটা তিনি রেখে গেছেন তার সন্তান, ভাই ও স্ত্রীদের জন্য।

এই পার্টিটাও ঐ এরশাদের মতোই একটা রাজনৈতিক হাস্য বিনোদনের অফুরান উৎসে পরিণত হয়েছে। এই পার্টির মালিকানা নিয়ে এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ, এরশাদের ভাই জি এম কাদের এই দুজনের মধ্যে টানাটানি একটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর সাথে মাঝে মাঝে যুক্ত হয়েছে এরশাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং কনিষ্ঠা স্ত্রী।

শেষের দুইজন নিয়মিত না হলেও মাঝে মাঝেই জনসমক্ষে আবির্ভূত হয়ে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন নানাপ্রকার কৌতুককর দাবিতে। আর মালিকানা নিয়ে এইরকম টানাহেঁচড়ার সমাধানের জন্যে জাতীয় পার্টির এই দুই বড় উত্তরসূরি, এরা গিয়ে ধরনা দেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে—তিনি যা নির্দেশ দেবেন সেই অনুযায়ীই নাকি এরা কাজ করবেন।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top