পার্বত্য অঞ্চলে তিন কারণে ম্যালেরিয়া কমছে না

পার্থ শঙ্কর সাহা

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুমিয়া ইউনিয়নের অনিল চাকমার চার বছরের ছেলে গভীর চাকমা গত বছরের ১৫ জানুয়ারি মারা যায়। দুমদুমিয়া ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা। অনিলের দাবি, ম্যালেরিয়ায় তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। রাঙামাটি জেলার ম্যালেরিয়া–সংক্রান্ত নথিতে অবশ্য এই মৃত্যুর ঘটনা লেখা নেই। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খিঁচুনি।

শিশু গভীর চাকমার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আট দিন আগে মায়ের সঙ্গে ভারতের এক আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সে। বাড়িতে এসে এক সপ্তাহ ভালো থাকলেও পরে হালকা জ্বর দেখা দেয়। প্রথমে কবিরাজি চিকিৎসা করায় তারা। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির স্বাস্থ্যকর্মী পরীক্ষা করলে তার ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়। শিশুটিকে ওষুধ দেওয়া হয়। পরে খিঁচুনি দেখা দিলে মুহূর্তে মারা যায় সে।

জেলার সার্ভিল্যান্স মেডিকেল অফিসার অ্যান্ড্রু বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির ম্যালেরিয়া ছিল, তবে মারাত্মক নয়। তার মৃত্যুর আসল কারণ আমরা নির্ণয় করেছি খিঁচুনি। তবে এলাকাটি ম্যালেরিয়া উপদ্রুত। সেখানে প্রায়ই মানুষ মালেরিয়ায় আক্রান্ত হন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমছেই না। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে তিন বছর ধরে ম্যালেরিয়ার রোগী বাড়ছে। বান্দরবানে বিদায়ী ২০২৩ সালে রোগীর সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে কম হলেও এই সংখ্যা ২০২১ সালের তুলনায় অনেক বেশি।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করতে চায়। দেশের ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ৯০ শতাংশ হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে। সেখানে এই রোগ বৃদ্ধির প্রবণতা সরকারের লক্ষ৵ পূরণে বাধা হয়ে উঠতে পারে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন মাঠপর্যায়ের চিকিৎসক, কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষকেরা। এক, পার্বত্য এলাকায় বিতরণ করা কীটনাশকযুক্ত মশারি মশা প্রতিরোধে কাজ করছে না। দুই, পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় সংক্রমণ বেশি হওয়ার পরও প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে নজরদারির অভাব। তিন, প্রকৃতি, মশা ও মানুষের আচরণে পরিবর্তন।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top