পুলিশ কেন মঈন খানকে বাসায় পৌঁছে দিল?

সোহরাব হাসান

সম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের সঙ্গে কথা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁদের একজন খুব উষ্মা প্রকাশ করলেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনীতি তো কোনো পেশা নয়। দেশসেবা। সংসার চালাতে রাজনীতিকদেরও একটি পেশা বেছে নিতে হয়। অনেকের ছোটখাটো ব্যবসাও আছে। তাই বলে অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে ‘জনগণের রক্তচোষা’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়।

আরেকজন স্বতন্ত্র সদস্য বললেন, তিনি জিতেছেন, এটা নৌকার প্রার্থী কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ পরও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। প্রথম আলোর খবরে পড়লাম, মাদারীপুর-৩ আসনে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ২৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুজন মারা গেছেন, আহত ৭০ জন। এই হলো শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নমুনা।

স্বতন্ত্র সদস্যদের কাছে প্রশ্ন ছিল, তাঁরা সংসদে কী ভূমিকা রাখবেন? নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কি না? এই প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত তাদেরও জানা নেই। দুদিন আগে ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত আস্থা প্রকাশ করে এসেছেন। বলেছেন, স্বতন্ত্র হলেও তারা আওয়ামী লীগেই আছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে: ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে।’ এমনকি সংসদে উপস্থিত থেকে ভোটদানে বিরত কিংবা সংসদের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে সেটাও বিপক্ষে ভোট দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে।

একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ওপর ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য নয়।’ কিন্তু তাঁরা দলীয় প্রভাব ও খবরদারির বিষয়টি এড়াবেন কীভাবে?
বর্তমানে সংসদে ২৯৯ জন সংসদ সদস্য আছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৬৩ জন। আওয়ামী লীগের সহযোগী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ নৌকা নিয়ে দুটি আসন পেয়েছে। জাতীয় পার্টির ১১ জন, কল্যাণ পার্টির একজন ও আরও দুই-একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের দলীয়।

ইত্তেফাক শিরোনাম করেছে, ‘অন্য রকম এক সংসদের যাত্রা শুরু আজ।’ নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের ২৮টি নির্বাচনে অংশ নেয়। ১৫টি বর্জন করে। অংশ নেওয়া ২৮ টির মধ্যে কথিত কয়েকটি ‘কিংস পার্টি’সহ ২৩টিই কোনো আসন পায়নি। সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে মাত্র পাঁচটির।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top