পোশাক শিল্পের বাজার সম্প্রসারণের বিকল্প নেই

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

নানামুখী সমস্যায় বিপর্যস্ত বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এ শিল্পের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চলছে।

পোশাক শিল্পে বিরাজমান নানামুখী বিশৃঙ্খলার সুযোগে অপশক্তি এ শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। মানব-শ্রমিক অধিকার ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণ-বাস্তবায়নের মোড়কে কতিপয় উন্নত বিশ্বের অযাচিত নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় বাংলাদেশের রপ্তানিকারক, বিশেষ করে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে দুশ্চিন্তা-উৎকণ্ঠার অন্ত নেই।

মার্কিন বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার সম্ভাবনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মেমোরেন্ডাম ইতোমধ্যে পোশাক শিল্পে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এটি কাঁচামাল সংগ্রহ এবং অন্যান্য দেশে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এ ধরনের বিধিনিষেধে পোশাক শ্রমিকদের কাজের অবস্থার যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ারও সমূহ আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অফ বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘আইনের যথাযথ পরিপালন’ শীর্ষক আলোচনায় পোশাক খাতে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যথাযথ নিয়ম (ডিউ ডিলিজেন্স) না মানলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা আদায়ে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি।

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, ‘ডিউ ডিলিজেন্স যে আইন করা হয়েছে তা শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার বিষয় নয়; সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত সবার পালনের জন্য। এসব নিয়মকানুনের মধ্যে শিশুশ্রম, বাধ্যতামূলক শ্রম, দাসত্ব, বন ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, ইকোসিস্টেমের ক্ষতি এবং মানবাধিকারের মতো বিষয় রয়েছে। সুতরাং, এসব শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের একার স্বার্থ নয়, এর সঙ্গে বৈশ্বিক স্বার্থ যুক্ত।

২০২৬ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশকে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাই ডিউ ডিলিজেন্স আইনকে আলাদা হিসাবে দেখা ঠিক হবে না। এ সম্পর্কিত প্রায় ৩২টি কনভেনশন রয়েছে। বাংলাদেশকে এগুলো শুধু অনুসমর্থন নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top