ফিলিস্তিনের জন্য নতুন যুগের সূচনা

ইকবাল জাসাত

গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, তখন থেকেই পুরো বিশ্ব এর ফলাফলের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিল। সর্বজনীন আলোচনায় যে প্রশ্নটি সবার মনে জেগেছে তা হলো, প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার নেতৃত্বে এএনসির নেতৃত্বাধীন সরকার কি ঠিক কাজ করেছে? এটি ইসরায়েলের পশ্চিমা রক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞদের দল নিশ্চিত করেছে যে, তাদের মামলাটি অকাট্য এবং আইসিজে প্যানেলের বিচারকদের কাছে অত্যন্ত বিস্তৃত এবং আকর্ষণীয় একটি মামলা উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি অসার ও ভিত্তিহীন বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আসরে আবির্ভূত হয়েছেন পশ্চিমা দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা। বাইডেন প্রশাসনও একে অভিহিত করেছে: ‘অসার, ক্ষতিকারক এবং সম্পূর্ণরূপে তথ্য-প্রমাণহীন।’

দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা মামলাটি যাতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) খারিজ করে দেয়, সে জন্য ইসরায়েলের আইনজ্ঞ দলও নির্লজ্জের মতো যাবতীয় আইনি কৌশল ব্যবহারের চেষ্টা করে।

কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক আদালতের চূড়ান্ত রায় বের হয়, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনগত যুক্তি শুনে কটু ভাষা ব্যবহারকারীরা হতবাক হয়ে যান। আদালতের রায় ছিল, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যা চালানোর আশঙ্কা যথেষ্ট। এই রায় ইসরায়েল ও তার সমর্থকদের ঘুম ভেঙে দিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, তাদের ‘অস্পৃশ্যতার’ যুগ শেষ হতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পশ্চিম ইউরোপের নিঃশর্ত রাজনৈতিক সহায়তার কারণে ইসরায়েল যে বিনা প্রতিদানে নির্যাতন চালিয়ে যেতে পারবে, সেই বিশ্বাস আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের পর নষ্ট হয়ে গেছে।

যে আইনজ্ঞরা রায়টি মনোযোগসহকারে বিশ্লেষণ করেছেন, তাঁরা তুলে ধরেছেন যে, এটি ‘ইসরায়েলি রাষ্ট্রনেতাদের, যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের এবং উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের “ধ্বংস করার ইচ্ছা” ঘোষণার কয়েক ডজন সুস্পষ্ট উক্তি এবং নজিরহীন হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতি ইঙ্গিত করে।’

কল্পনা করুন, ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে আইনজ্ঞদের একটি দল। তাদের হাতে রয়েছে রায়ের কাগজ, যা তারা মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। তাদের চোখে বিস্ময় ও ক্ষোভ। কারণ, রায়ে লেখা রয়েছে ইসরায়েলি নেতারা কীভাবে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, কীভাবে যুদ্ধে নির্মমভাবে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদন মেনে নিয়ে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা জারি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ২৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ৬৪ হাজারের বেশি আহত হওয়ার কথা। পাশাপাশি প্রায় ২০ লাখ মানুষকে জোর করে উচ্ছেদ হয়ে বর্তমানে ‘দুর্ভিক্ষ ও সংক্রামক রোগের মুখোমুখি’র মতো বেদনাদায়ক ও সত্য পরিস্থিতিকে স্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top