ভালো শিক্ষা ছাড়া কোনো দেশ ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ পায়নি

সাবিদিন ইব্রাহিম

ভুল নীতি, ভুল পলিসি ও ভুল পথে অনেক সম্ভাবনাময় জাতিও কানাগলিতে হামাগুড়ি দেয়। বাংলাদেশ সেদিকে এগোবে কিনা তা নির্ধারণ করবে কোন নীতি গ্রহণ করছে, কোন অভিমুখে যাত্রা করছে তার ওপর। ভৌগোলিক অবস্থান থেকে শুরু করে কর্মক্ষম বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর সমাবেশের কারণে বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনাময়, এটা বারবার উচ্চারিত ও উৎসারিত কথা। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের কথা কয়েক দশক ধরেই আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু আদতে আমরা কতটুকু সুবিধা ঘরে তুলতে পেরেছি তা অনুসন্ধানের সময় এসেছে।

আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের আলাপটা বেশ হতাশাজনক। এ আলাপের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে মানুষ এবং তাদের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয় ও উন্নত দেশ হতে গেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে মনোযোগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

আমরা জাপান, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর কথা যদি বলি তাহলে দেখব, তারা শিক্ষায় সর্বোত্তম বিনিয়োগের মাধ্যমেই এ জায়গায় এসেছে। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ও পরাশক্তি হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রভাবক ছিল শিক্ষা। ১৭৭৬ সাল থেকে ১৮৬১-এর গৃহযুদ্ধ অবধি উত্থানকালে শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন ফাউন্ডিং ফাদাররা। বর্ণবাদ যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক দিক হলেও ১৮৫০-এর দশকে প্রায় শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে পেরেছিল তারা। বলা হয়, স্বাধীনতার এক শতকে প্রাথমিকের ভিত্তি দাঁড় করিয়েছে এবং পরবর্তী অর্ধশতকে মাধ্যমিকের ভিত মজবুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশ্ন আসতে পারে, আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের জন্য তো তাহলে ১০০ বছর সামনে আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আগে ১০০ কিংবা ৫০০ বছরে যে পরিবর্তন আসত এখন তা দুই বা পাঁচ বছরেই আসে। এক দশকেই এখন যে পরিবর্তন আসে তা আগে ৫০০ বা হাজার বছর লেগে যেত। অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক পেশা, অনেক কোম্পানি, অনেক সেবা হারিয়ে যায়। আবার নতুন পেশা, নতুন কোম্পানি ও নতুন পরিষেবা সৃষ্টি হয়। এখন এক যুগ কিংবা এক দশকের মধ্যেই কোনো একটি দেশকে বড় ধরনের উল্লম্ফন করতে হবে। আরেকটি কথা হচ্ছে, আমরা যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা বলছি তা সামনের ২০-৩০ বছরের পর সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে যাবে। আমরা চাইলেও সে ডিভিডেন্ড নিতে পারব কি?

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top