যুক্তরাষ্ট্র, নব্য মোশতাক এবং স্ববিরোধিতা

সৈয়দ বোরহান কবীর

৩ আগস্ট, ১৯৭৫। দৈনিক ইত্তেফাকের দ্বিতীয় পাতার কোনায় একটি ছোট্ট খবর। ‘বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাকের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ’। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজেন বোস্টার খন্দকার মোশতাকের আগামসিহ লেনের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেই সময় খবরটি গুরুত্বহীন ছিল। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট এ খবরটি ইতিহাসে নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের একটি বড় সূত্র হয়ে যায়। কাকতালীয়ভাবে ঠিক ৪৮ বছর পর ঠিক এই দিনেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গেলেন। এটাও সৌজন্য সাক্ষাৎ। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার দেহভঙ্গিমা এমন যেন মনে হলো, পিটার হাস একজন রাষ্ট্রদূত নন, বাংলাদেশের শাসক অথবা দেবদূত। বাংলাদেশে মার্কিন ভাইসরয়। যুগ্ম সচিব মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে ধন্য হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। একেক নেতার চেহারায় যেন ঈদের খুশির ঝলক। কদিন আগেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ১২টি দেশের কূটনীতিকদের তলব (আমন্ত্রণ) করেছিলেন। তাদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার সম্পর্কেও সবক দেন। দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অযথা নাক না গলানোর পরামর্শ দেন। এর এক দিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে একহাত নেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের অতি উৎসাহের জন্যই বিদেশিরা বাংলাদেশে মাতব্বরি করার সুযোগ পায়।’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর বেজায় চটেছিলেন। রেগে তিনি বলেন, ‘তারা কি মগের মুল্লুক পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত কিছুদিন ধরে খোলামেলাভাবেই মার্কিন নীতির সমালোচনা করছেন। সর্বশেষ ইতালি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন কারও কারও কাছে চক্ষুশূল। এ জন্য তারা আমাকে এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে চায়।’ এর আগে আলজাজিরা এবং বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে চায়।’ জাতীয় সংসদে প্রদত্ত ভাষণে শেখ হাসিনা একই কথা বলেছেন। তিনি এটাও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো দেশে চাইলে ক্ষমতার ওলটপালট ঘটাতে পারে।’ দেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এরকম অবস্থানে, তখন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পিটার ডি হাসের উষ্ণ অভ্যর্থনা কী বার্তা দেয়? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছিলেন? এটাই কূটনৈতিক শিষ্টাচার।

অন্যান্য দেশে রাষ্ট্রদূতরা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রথমে অবহিত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই সময় ও অলোচ্যসূচি নির্ধারিত হয়। ৩ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কি সেই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়েছে? ভারতে এভাবে কোনো বৈঠকের কথা একজন রাষ্ট্রদূত কল্পনাও করতে পারেন না। এই তো সেদিন, পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমতি দিতে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করলেন ইমরান খানের মুখপাত্র। পাকিস্তানেও যদি মার্কিন রাষ্ট্রদূত কূটনৈতিক শিষ্টাচার মানেন, তাহলে বাংলাদেশে মানবেন না কেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের বাড়াবাড়ির জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছিলেন, এখন ড. মোমেন কী বলবেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের অতিভক্তির জন্যই কি যুক্তরাষ্ট্রের খবরদারি সীমা অতিক্রম করছে না? খুব জানতে ইচ্ছে করে, এখন কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে কৈফয়ত তলব করবে? তাকে বলবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করে এ ধরনের বৈঠক সঠিক নয়। এ বৈঠকের পর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে, তিনি আবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন—‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।’ এ কথা বারিধারা থেকে গুলিস্তানে এসে ঘটা করে বলতে হবে কেন? এ কথা তো গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকর্তা শতবার বলেছেন। পিটার হাস দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত এক ডজনবার এরকম মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করে পিটার হাস সংবাদ সম্মেলন করলেন। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন না কেন? বিএনপি নেতাদের সকাল-সন্ধ্যা আমেরিকান ক্লাব কিংবা তার বাসভবনে নিয়ে যান কী কারণে? এর ব্যাখ্যা কি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেন? মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ডেস্কে বলেন না? এটাই তার একমাত্র কূটনৈতিক পথ? এসব বৈঠক করে কি তিনি দেখাতে চান মার্কিন আধিপত্য? সব রাজনৈতিক দল তাদের প্রভুত্ব স্বীকার করে, এটা প্রমাণের জন্যই কি এসব বৈঠক? আওয়ামী লীগের যেসব নেতা নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন, তাদের কাছেও আমার কিছু প্রশ্ন। শোকের মাসে আওয়ামী লীগ নেতারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। কেউ কি প্রশ্ন করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দিচ্ছে না? জাতির পিতার এ আত্মস্বীকৃত খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র এ জঘন্য খুনিকে নাগরিকত্ব দিয়েছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে খুনি রাশেদ ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় নেয়। তখন থেকেই বাংলাদেশ খুনি রাশেদকে ফেরত পাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এ বিষয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে অনুরোধ করেন। ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমিও চাই না, এ ধরনের ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকুক।’ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এ খুনিকে ফেরত দেয়নি। শোকের মাসে আওয়ামী লীগের নেতারা যদি পিটার হাসকে খুনি রাশেদ চৌধুরীর বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেন, তাহলে খুশি হতাম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে খুনি রাশেদ চৌধুরী প্রসঙ্গ আসেনি। কী আশ্চর্য? এ প্রসঙ্গে আমার ২০১৩ সালের আগস্ট মাসের একটি ঘটনা মনে পড়ল। প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করছে। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে জামায়াত শুরু করেছে দেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাস। এরকম একটি উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলেন। সৈয়দ আশরাফুল বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলেন। সচিবালয়ে দুপুর ১২টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হলো। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মহাপরিচালক নিয়ে এলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে। এক ঘণ্টার বৈঠকের পর, সাংবাদিকদের ডাকা হলো ফটোসেশনের জন্য। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে করমর্দনরত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তিনি রাষ্ট্রদূতকে ইংরেজিতে কয়েকটি কথা বললেন। যার বাংলা অর্থ এরকম—‘সম্মানিত রাষ্ট্রদূত, আপনার সঙ্গে এরপর যখন আমার সাক্ষাৎ হবে, তার আগেই আমরা নিশ্চয়ই খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাব।’ তখন ড্যান মজিনার মুহূর্তে ব্রিবত হওয়ার দৃশ্যটি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মন্ত্রণালয়ের করিডোরে সাংবাদিকদের কাছে দুয়েকটি কথা বলেই তিনি বিদায় নিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের বললেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কাজ হলো ’৭৫-এর আত্মস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়া।’

সৈয়দ আশরাফুলের এ দৃঢ়তা এখনকার আওয়ামী লীগের কজন নেতার আছে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আওয়ামী লীগের পরস্পরবিরোধী অবস্থান কেন? কেন স্ববিরোধী বক্তব্য? সরকার এবং আওয়ামী লীগের মার্কিন নীতি কী, এ নিয়ে আমার মতো আমজনতার বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন। ২ আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগের আদর্শিক জোট ১৪ দল কর্মসূচি শুরু করেছে। এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ১৪ দলের নেতারা। আবার আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা প্রকাশ্যে-গোপনে মার্কিন দূতাবাসে দেনদরবার করছেন। কোনটা আওয়ামী লীগের পথ, তা আওয়ামী লীগকেই পরিষ্কার করতে হবে। যারা আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকে মার্কিন জুজুর ভয় দেখাচ্ছেন, তাদের আসল মতলব কী তা খুঁজে বের করতে হবে। এরা ‘নব্য মোশতাক’ কি না, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটা তাদের কূটনৈতিক দায়িত্ব। আর দল তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করবে। বাংলাদেশের মর্যাদা ও সম্মান সুরক্ষার দায়িত্ব ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের। আওয়ামী লীগকে প্রমাণ করতে হবে, কারও চাপে নয়, বিবেকের তাড়নায় নয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র এ নির্বাচন নিয়ে হৈচৈ করছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ বোধহয় মার্কিন কলোনি। আর মার্কিন এ নব্য আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে আওয়ামী লীগের একটা অংশ।

একটি উদাহরণ দিতে চাই, আওয়ামী লীগের নেতা এবং সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখানে বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটে তার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। প্রবাসে থাকা কিছু বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। মুহূর্তেই ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী এ ভিডিও দেখে একজন বিএনপি কর্মীকে শনাক্ত করে। এরপর তার বাড়ি আক্রান্ত হয়। এটি সঠিক না ভুল তা অন্য প্রসঙ্গ। কিন্তু এ ঘটনা দেশে প্রবাসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে। বিদেশে কিছু দুর্বৃত্তের বাড়াবাড়ি এখন সব সীমা অতিক্রম করেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গেলেও কিছু অর্বাচীন এমন কাণ্ড করে, যাতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ সফরে কিছু বিএনপি-জামায়াত সমর্থক এমন কদর্য কাণ্ড করেছে যাতে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শামীম ওসমানের ঘটনার পর নোয়াখালীর প্রতিক্রিয়া ছিল স্বাভাবিক পরিণতি। এ ঘটনার কোনো আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নেই। এটি উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বাস্তবতা। কিন্তু নোয়াখালীর ঘটনার পর আওয়ামী লীগের কিছু নেতা হাহাকার শুরু করলেন। এমনকি তারা বলে বসলেন, ‘এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সামাল দেব কীভাবে?’

হায়! হায়। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ কি এখন মার্কিন বশীকরণ বটিকা আবিষ্কারে ব্যস্ত? বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। যারা স্বাধীন দেশে মার্কিন প্রভুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারা একালের মোশতাক। যারা আওয়ামী লীগের হর্তাকর্তা সেজে দল এবং নেতার স্বার্থের বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে চায়, তারা নব্য মোশতাক।

’৭৫-এ যুক্তরাষ্ট্রকে চটানো যাবে না, এ তত্ত্ব দিয়ে যারা আওয়ামী লীগকে বিভ্রান্ত করেছিল, তারা সবাই আগস্ট ষড়যন্ত্রের হিস্যা হিসেবে প্রমাণিত। এখন যারা যুক্তরাষ্ট্রকে সমীহ করার ফর্মুলা দিচ্ছে, তাদের সতর্ক নজরদারিতে রাখতে হবে। না হলে বিপর্যস্ত হবে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত

সৌজন্যে- কালবেলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top