স্কুলের প্রথম দিনটাই দুনিয়াতে কেন আবিদার শেষ দিন?

মনোজ দে

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। সাপ্তাহিক ছুটি শুরুর তাড়াহুড়োর সময়টা। ব্যক্তিগত কাজে ধানমন্ডি যাচ্ছি। রাসেল স্কয়ার থেকে রাস্তা পার হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের রাস্তা পার হচ্ছি। একে একে তিনটি সিগন্যাল ছাড়ার জন্য রাসেল স্কয়ারের পুলিশ বক্সের সামনে বেশ কয়েক মিনিটের অপেক্ষা। অবশেষে ট্রাফিক পুলিশের থেমে থাকা হাত নামল।

রাস্তা পার হতে গিয়ে দু-তিন পা সামনে এগোতেই পেছন থেকে ধেয়ে এল দ্রুতগতির মোটরসাইকেল। নিশ্বাস চেপে কোনোভাবে পিছিয়ে আসা। বলা চলে ভাগ্যগুণেই দুর্ঘটনা থেকে অক্ষত ফেরা। চালক পেছন ফিরে কী যেন একটা গালি দিয়ে দ্রুতগতিতে চলে গেলেন। তাঁর পেছন পেছন মোটরসাইকেল, রিকশা আর সাইকেলের বহর। রবার্তো কার্লোসের বেনানা ফ্রি কিকের কায়দায় পুলিশ বক্সটা ঘুরে সাঁই সাঁই করে বের হয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া আর মোটরসাইকেলচালকের গালির তুবড়িতে এতটাই হতবিহ্বল যে বুঝতে পারছিলাম না আমার ভুলটা কী? ট্রাফিক নিয়ম ভেঙে চলন্ত গাড়ির মধ্য দিয়েই তো রাস্তা পার হয়নি। তাহলে কেন এই বিড়ম্বনা? না, বিড়ম্বনা বলছি কেন? নাগরিক হিসেবে কারও মর্যাদাটা থাকল কীভাবে?

আনন্দবাজার পত্রিকার শতবর্ষ উপলক্ষে অমর্ত্য সেন ছোট একটা লেখা লিখেছেন। ভারতে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোথায় কোথায় কাজ করা দরকার, সে প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ভারতবর্ষে সাধারণ মানুষের মর্যাদা নেই। তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

সাধারণ মানুষের এই সম্মানহীনতা ভারতের মতো একই ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার বহন করা বাংলাদেশের জন্যও সত্য। বরং সেই সত্যটা আরও অনেক বেশি ও দৃষ্টিকটুভাবে প্রকট। ব্রিটিশ কালপর্বে ঔপনিবেশিক প্রভু আর উপনিবেশিত প্রজা—এই শাসনকাঠামোকে কেন্দ্র করে যে নৈতিকতা গড়ে উঠেছিল, তার পরম্পরা আমরা চেতনে-অবচেতনে বহন করে চলেছি। এই সম্পর্কসূত্রই গণতন্ত্রমনস্ক হতে বাধা দেয়। এই মানসিকতায় আমলাতন্ত্র-প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে যায়। এই ব্যবস্থা যেমন একদিকে গণদুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়, অন্যদিকে গণনৈতিকতার মানকে তলানিতে নিয়ে যায়।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top