দুর্বল সংগঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে চিন্তিত নেতাকর্মী

টানা ১৫ বছরে তিনটি নির্বাচনের আগেই দাবি আদায়ের আন্দোলন ‘ব্যর্থ’ হওয়ায় চিন্তিত বিএনপি নেতাকর্মী। সবার মনে একটাই প্রশ্ন– সরকার কি এবারও দমনপীড়নের মাধ্যমে পাঁচ বছর টিকে যাবে? নাকি বৈশ্বিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্দোলন মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হবে– এমন হিসাবনিকাশ ও আশা-নিরাশার দোলাচলের মধ্য দিয়ে সময় যাচ্ছে বিরোধী নেতাকর্মীর। একই সঙ্গে দলের ভেতরের সাংগঠনিক ও নেতৃত্বের দুর্বলতা নিয়েও চলছে আত্মসমালোচনা। ফের ঘুরে দাঁড়াতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মাধ্যমে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের তাগিদ দিয়েছেন তারা। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে এমন অভিমত পাওয়া গেছে। 

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণেরও তাগিদ দিয়েছেন নেতাকর্মী। একই সঙ্গে দলের ভেতর সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার ও ভোটের মাধ্যমে ‘ঢাউস কমিটি’র বদলে ছোট ও সময়োপযোগী কমিটি গঠন করার যুক্তি দিয়েছেন। নিষ্ক্রিয়দের বাদ, বয়স্ক ও অসুস্থদের স্থায়ী কমিটি থেকে উপদেষ্টা (উপদেষ্টাদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা তুলে ‘সম্মানীত উপদেষ্টা’ করা) করার পাশাপাশি সক্রিয় ও পোড় খাওয়া যোগ্যদের মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন মাঠকর্মীরা। দলে পদায়নে সিনিয়রিটি বজায় রাখার ব্যাপারেও গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, অতীতে এটি লঙ্ঘিত হওয়ায় অনেকে মনঃকষ্টে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। 

‘দলের চেইন অব কমান্ড’ বিঘ্নিত হওয়ার উদাহরণ দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ও মাঠের নেতারা। 

একই কারণে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক উইংকে দুর্বল আখ্যায়িত করে শক্তিশালীকরণ ও বৈশ্বিক রাজনীতির গভীরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দলের নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে সবার আগে গ্রেপ্তারকৃত দলের মহাসচিবসহ ২৭ হাজার নেতাকর্মীকে কারামুক্ত করার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নেতাকর্মী।

বিস্তারিত পড়ুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top